
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে সংস্থাটিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের মূল লক্ষ্য হলো দুদকের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে সংস্থাটিকে নিজস্ব প্রসিকিউশন ও তদন্ত ইউনিট পরিচালনার পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া। এতে কমিশনের বর্তমান কাঠামো ভেঙে একে আরও জবাবদিহিতামূলক করা এবং উচ্চ আদালতের আদলে কমিশনারদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে তারা কোনো ভয় বা চাপের মুখে নতিস্বীকার না করেন।
দ্বিতীয়ত, প্রতিবেদনে দুর্নীতি প্রতিরোধে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা (Asset Recovery) এবং রাঘববোয়ালদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ আইনি ক্ষমতা প্রদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব নিয়মিত প্রকাশ এবং জনসচেতনতা তৈরির মাধ্যমে একটি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার রোডম্যাপ এখানে তুলে ধরা হয়েছে। মূলত, দুদককে কেবল 'নখদন্তহীন বাঘ' হিসেবে নয়, বরং সুশাসনের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে গড়ে তোলাই এই সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য।