
ড. ফ্রান্সিস বুকানন-এর ১৭৯৮ সালের এই অসামান্য ভ্রমণলিপিটি দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার ইতিহাস ও ভূগোলের এক জীবন্ত চালচিত্র। দীর্ঘকাল ব্রিটিশ লাইব্রেরির আর্কাইভে পড়ে থাকা এই অমূল্য পাণ্ডুলিপিটি গবেষক উইলেম ভ্যান শেন্ডেল-এর হাত ধরে পুনরায় বর্তমান প্রজন্মের কাছে উপস্থাপিত হয়েছে। ১৮০৭ সালের বিখ্যাত 'স্ট্যাটিস্টিকাল সার্ভে'র প্রায় নয় বছর আগে বুকানন যখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হয়ে মশলা চাষের উপযোগী জমি খুঁজতে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা অঞ্চলে অভিযান শুরু করেন, তখন তিনি কেবল কৃষি সম্ভাবনাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। বরং তাঁর তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে কর্ণফুলী থেকে নাফ নদী এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের গহীন অরণ্য পর্যন্ত বিস্তৃত এক অজানা জনপদের আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা।
এই গ্রন্থের প্রতিটি পাতায় ফুটে উঠেছে সে সময়ের বিচিত্র জাতিগোষ্ঠীর জীবনধারা। বুকাননই প্রথম ব্যক্তি যিনি চাকমা, মারমা, ম্রো ও খুমিদের জীবনপ্রণালী নিয়ে বিস্তারিত প্রামাণ্য বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেন। এছাড়া, ময়নামতী ও সীতাকুণ্ডের মতো ঐতিহাসিক স্থানের প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব এবং মেঘনা অববাহিকার ভূ-প্রকৃতির যে নিখুঁত বর্ণনা তিনি দিয়েছেন, তা আজও ঐতিহাসিকদের কাছে আকর গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত। এই ভ্রমণবৃত্তান্তটি কেবল অতীতের বিবরণ নয়, বরং বর্তমান বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জাতিগত বৈচিত্র্য, কৃষি বিবর্তন এবং উপনিবেশিক শাসন আমলের সূচনালগ্নকে বোঝার জন্য একটি অপরিহার্য দলিল। ইতিহাসপ্রেমী এবং গবেষকদের জন্য এই সংকলনটি হবে সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাওয়া এক বিস্মৃত অধ্যায়ের সাথে পুনরায় সংযোগ স্থাপনের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম।