
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং গণমাধ্যমকে সব ধরনের রাজনৈতিক ও করপোরেট প্রভাবমুক্ত রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের মূল লক্ষ্য হলো একটি স্বাধীন 'গণমাধ্যম কমিশন' গঠন করা, যা কেবল নিয়ন্ত্রক হিসেবে নয় বরং সংবাদকর্মীদের সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করবে। এতে বিতর্কিত ও নিবর্তনমূলক আইনি ধারাগুলো বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে সত্য প্রকাশে সাংবাদিকদের কোনো ধরনের হয়রানি বা সেন্সরশিপের শিকার হতে না হয়।
দ্বিতীয়ত, প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের জন্য সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামো বা 'ওয়েজ বোর্ড' বাস্তবায়ন এবং কর্মক্ষেত্রে চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অপসাংবাদিকতা ও ভুয়া খবর (Fake News) রোধে একটি শক্তিশালী নৈতিক নীতিমালা তৈরির পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে গণমাধ্যমের স্বত্ব রক্ষার বিষয়টিকেও এখানে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। মূলত, গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে এর হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা এবং অবাধ তথ্য প্রবাহের মাধ্যমে জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করাই এই সংস্কারের মূল দর্শন।