
জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন এবং সরকারি সেবাকে সরাসরি জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো প্রশাসনের কেন্দ্রিকতা পরিহার করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং মেধার ভিত্তিতে কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও পদায়ন নিশ্চিত করা। প্রতিবেদনে একটি 'জনপ্রশাসন কমিশন' গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত থেকে কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব এবং নৈতিক মানদণ্ড তদারকি করবে, যাতে সিভিল সার্ভিস কেবল একটি চাকরি নয় বরং জনসেবার প্রকৃত মাধ্যমে পরিণত হয়।
দ্বিতীয়ত, প্রতিবেদনে প্রযুক্তিনির্ভর 'স্মার্ট প্রশাসন' গড়ে তোলার মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার রোডম্যাপ তুলে ধরা হয়েছে। ফাইল কেবিনেটের স্তূপ কমিয়ে ই-গভর্নেন্স জোরদার করা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব নিয়মিত বাধ্যতামূলকভাবে জনসমক্ষে প্রকাশের সুপারিশ করা হয়েছে। দুর্নীতির পথ বন্ধ করতে প্রতিটি বিভাগে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা এবং জনভোগান্তি দূর করতে 'ওয়ান স্টপ সার্ভিস' চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মূলত, শাসক নয় বরং সেবকের মানসিকতা নিয়ে একটি গতিশীল ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলাই এই সংস্কারের মূল দর্শন।