
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করতে নির্বাচন কমিশনকে (EC) প্রকৃত অর্থে স্বাধীন ও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচন কমিশন নিয়োগে একটি স্বচ্ছ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আইন প্রণয়ন করা, যাতে মেধা ও সততার ভিত্তিতে যোগ্য ব্যক্তিরা দায়িত্ব পান। প্রতিবেদনে নির্বাচনের সময় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সরাসরি কমিশনের অধীনে ন্যস্ত করা এবং ভোট কারচুপি রোধে প্রযুক্তিগত ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার জোরালো সুপারিশ করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, প্রতিবেদনে ভোটারদের ভোটাধিকার সুরক্ষা এবং প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তুলে ধরা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে গণতন্ত্র চর্চা বাধ্যতামূলক করা, নির্বাচনী ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচন পরবর্তী বিরোধ নিষ্পত্তিতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মূলত, ভোটারদের মধ্যে আস্থার পুনর্গঠন এবং একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনী সংস্কৃতি গড়ে তোলার মাধ্যমেই রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভিত মজবুত করাই এই সংস্কার প্রতিবেদনের মূল অভীষ্ট।