
তুহিন শুভ্র ভট্টাচার্য রচিত 'রবীন্দ্র ভাবনায় দুর্গা' গ্রন্থটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যকর্মে দেবী দুর্গা এবং শারদীয়া উৎসবের উপস্থিতি নিয়ে একটি গভীর গবেষণামূলক কাজ। লেখক অত্যন্ত নিপুণভাবে বিশ্লেষণ করেছেন কীভাবে রবীন্দ্রনাথ তাঁর কাব্য, নাট্য, উপন্যাস এবং গীতিমালায় দেবী দুর্গাকে কেবলমাত্র পৌরাণিক চরিত্র হিসেবে নয়, বরং বাঙালির চিরায়ত আনন্দ-বেদনা ও মর্ত্যপ্রীতির এক অনন্য প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। বইটিতে ব্রাহ্ম সমাজভুক্ত হয়েও কবির এই শাশ্বত উৎসব ও মূর্তিকল্পের প্রতি বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গিটি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
গ্রন্থটিতে বিভিন্ন অধ্যায়ের মাধ্যমে রবীন্দ্রসাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় দুর্গার রূপ অন্বেষণ করা হয়েছে। 'রবীন্দ্রকাব্যে দুর্গা' থেকে শুরু করে 'ছোট গল্পে দুর্গা', 'রবীন্দ্র-নাটকে দুর্গা' এমনকি কবির চিঠিপত্র ও ব্যক্তিগত ডায়েরিতে ছড়িয়ে থাকা দুর্গা ভাবনার সংকলন এখানে পাওয়া যায়। কবিগুরুর কাছে দুর্গা বা শারদীয়া উৎসব ছিল মিলনের উৎসব, যা হিমালয়ের কন্যা উমার পিতৃগৃহে আগমনের মধ্য দিয়ে বাঙালির ঘরে ঘরে কন্যার প্রত্যাবর্তনের করুণ ও আনন্দময় মুহূর্তকে তুলে ধরে।
বইটির একটি বিশেষ দিক হলো 'শারদীয় সাহিত্য ও রবীন্দ্রনাথ' এবং 'বিজয়া ও রবীন্দ্রনাথ' অধ্যায় দুটি। এখানে লেখক দেখিয়েছেন বিজয়ার বিচ্ছেদ বিষাদ কীভাবে রবীন্দ্র সংগীতে এক আধ্যাত্মিক ও মানবিক পূর্ণতা পেয়েছে। ১৯৯৯ সালে প্রথম প্রকাশিত এই গ্রন্থটির দ্বিতীয় সংস্করণ বর্তমানে 'আদিত্য প্রকাশ' থেকে প্রকাশিত হয়েছে, যা রবীন্দ্র অনুরাগী ও সাহিত্য গবেষকদের জন্য একটি অপরিহার্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।