
সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে রাষ্ট্রযন্ত্রের সকল স্তরে স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা রোধ এবং ক্ষমতার ভারসাম্য (Checks and Balances) প্রতিষ্ঠার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো প্রধানমন্ত্রীর একক নির্বাহী ক্ষমতায় লাগাম টানা এবং সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রকৃত অর্থেই কার্যকর করা। প্রতিবেদনে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ প্রবর্তন, সংসদীয় কমিটির ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে একটি যৌক্তিক ভারসাম্য আনার সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি বা দল রাষ্ট্রকে কুক্ষিগত করতে না পারে।
দ্বিতীয়ত, প্রতিবেদনে মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে সাংবিধানিক গ্যারান্টি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। গণভোট (Referendum) প্রথা পুনর্বহাল এবং সংবিধানের বিতর্কিত বা অগণতান্ত্রিক ধারাগুলো সংশোধনের মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌমত্ব ফিরিয়ে আনার রোডম্যাপ এখানে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকারের সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার একটি স্থায়ী ও স্বচ্ছ কাঠামোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মূলত, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দীর্ঘমেয়াদী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এই সংবিধান সংস্কার প্রতিবেদনের মূল দর্শন।