
শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে শ্রমিকদের মানবিক মর্যাদা, ন্যায্য মজুরি এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে। এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো বিদ্যমান শ্রম আইনকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের (ILO Convention) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের মধ্যে বিরাজমান আস্থার সংকট দূর করা। প্রতিবেদনে একটি শক্তিশালী 'জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বোর্ড' গঠন এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সংগতি রেখে নিয়মিত মজুরি পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে মুদ্রাস্ফীতির বাজারেও শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান অক্ষুণ্ণ থাকে।
দ্বিতীয়ত, কর্মক্ষেত্রে ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার সহজতর করা এবং বিবাদ মীমাংসায় 'শ্রম আদালত'গুলোকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার সুপারিশ করা হয়েছে। নারী শ্রমিকদের জন্য মাতৃত্বকালীন সুবিধা বৃদ্ধি, শিশু যত্ন কেন্দ্র (daycare) নিশ্চিত করা এবং কর্মস্থলে যেকোনো ধরনের হয়রানি বন্ধে কঠোর আইনি কাঠামোর রূপরেখা এখানে তুলে ধরা হয়েছে। মূলত, সস্তা শ্রমের ধারণাকে পেছনে ফেলে দক্ষ ও সুরক্ষিত জনবল তৈরির মাধ্যমেই একটি টেকসই শিল্প খাত এবং বৈষম্যহীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এই সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য।