
স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সত্যিকারের স্বায়ত্তশাসিত ও শক্তিশালী করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের মূল লক্ষ্য হলো—ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে সিটি কর্পোরেশন পর্যন্ত প্রতিটি স্তরকে আমলাতান্ত্রিক নির্ভরতা থেকে মুক্ত করে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ করা। এতে স্থানীয় সরকারের বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো, নিজস্ব আয়ের উৎস সৃষ্টি এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রতিনিধিদের পূর্ণ ক্ষমতা প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে তৃণমূলের সিদ্ধান্ত তৃণমূল থেকেই গ্রহণ করা সম্ভব হয়।
দ্বিতীয়ত, প্রতিবেদনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন ‘স্থানীয় সরকার কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা জনপ্রতিনিধিদের অনিয়ম তদারকি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে কাজ করবে। নারী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে নাগরিক সুবিধা জনগণের হাতের নাগালে পৌঁছে দেওয়ার রোডম্যাপ এখানে তুলে ধরা হয়েছে। মূলত, কেন্দ্রমুখী শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে একটি শক্তিশালী স্থানীয় কাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমেই প্রকৃত গণতন্ত্র ও সুশাসন নিশ্চিত করা এই সংস্কারের মূল দর্শন।