
'White Paper on the State of Bangladesh Economy' বা 'বাংলাদেশের অর্থনীতির শ্বেতপত্র' হলো ২০২৪ সালে গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বস্তুনিষ্ঠ দলিল। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে একদল বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র, উন্নয়নের আখ্যান এবং বিদ্যমান সংকটগুলো ব্যবচ্ছেদ করেছে। এই প্রতিবেদনে কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক প্রবৃদ্ধি নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, আর্থিক খাতে অনিয়ম, এবং টেকসই উন্নয়নের অন্তরায়গুলো বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে। দেশের অর্থনীতির একটি নির্ভরযোগ্য মানদণ্ড হিসেবে এই শ্বেতপত্রটি বর্তমান ও ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণে এক অপরিহার্য নির্দেশিকা।
প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের গভীর সংকটগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট ও খেলাপি ঋণের প্রভাব, রাজস্ব আহরণে স্থবিরতা এবং মেগা প্রজেক্টগুলোর ব্যয় ও উপযোগিতা নিয়ে নির্মোহ বিশ্লেষণ। উন্নয়নের যে আখ্যান (Development Narrative) গত এক দশকে প্রচার করা হয়েছিল, তার নেপথ্যে থাকা বৈষম্য এবং দুর্নীতির চিত্র এখানে স্পষ্ট করা হয়েছে। এছাড়া, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সংস্কারের রূপরেখাও এতে স্থান পেয়েছে।
এই শ্বেতপত্রের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি স্বচ্ছ অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি করা। এটি বিনিয়োগকারী, উন্নয়ন সহযোগী এবং সাধারণ নাগরিকদের অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি বুঝতে সাহায্য করবে। ২০২৫ সালের শুরুতে প্রস্তাবিত 'ইনক্লুসিভ অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ফোরাম'-এর মাধ্যমে এই সংস্কার এজেন্ডাগুলোকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার পরিকল্পনাও এতে বর্ণিত হয়েছে।