
ইহুদি ও খ্রিস্টধর্মের মূলে থাকা ইয়াহওয়েহ (Yahweh) প্রাচীনকালে ইসরায়েল ও জুডাহ রাজ্যের জাতীয় দেবতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা অনুসারে, তাঁর আদি উৎস সম্ভবত কনান অঞ্চলের বাইরের দক্ষিণ মরুভূমি এলাকায় (মিদিয়ান বা ইদোম)। শুরুর দিকের প্রাচীন ধর্মীয় কবিতায় তাঁকে একজন মহা-যোদ্ধা এবং ঝড়ের দেবতা হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে, যিনি মেঘ আর বজ্রের মাধ্যমে নিজের শক্তির প্রকাশ ঘটাতেন। কালক্রমে, ইসরায়েলিরা যখন এই অঞ্চলে স্থায়ী হয়, তখন ইয়াহওয়েহ কনানীয় দেবমণ্ডলীর প্রধান দেবতা 'এল'-এর অনেক বৈশিষ্ট্য নিজের মাঝে আত্মস্থ করেন এবং হিব্রু জাতিগোষ্ঠীর একমাত্র রক্ষাকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন।
খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে ব্যাবিলনীয় নির্বাসন ইয়াহওয়েহ-এর ধারণায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসে। রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ইহুদি ধর্মতাত্ত্বিকরা তাঁকে কেবল একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের দেবতা হিসেবে না দেখে, সমগ্র মহাবিশ্বের একক ও অদ্বিতীয় স্রষ্টা হিসেবে প্রচার করতে শুরু করেন। এই সময় থেকেই ‘একেশ্বরবাদ’ বা এক ঈশ্বর ধারণার পূর্ণ বিকাশ ঘটে, যেখানে ইয়াহওয়েহ হয়ে ওঠেন ইতিহাসের নিয়ন্ত্রক এবং সমস্ত জাতির বিচারক। তাঁর নাম এতটাই পবিত্র বলে বিবেচিত হতো যে, পরবর্তী সময়ে ভক্তরা সরাসরি এই নাম উচ্চারণ করা বন্ধ করে দেন এবং এর পরিবর্তে 'আদোনাই' (প্রভু) বা 'হাশেম' (নাম) শব্দগুলো ব্যবহার করতে শুরু করেন, যা আধুনিক আব্রাহামিক ধর্মগুলোর মূল ভিত্তি তৈরি করেছে।